ব্রেক্সিট -ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মুখে ব্রিটেন, ‘‘লিভ” না ‘‘রিমেইন”?

| জুন 21, 2016 | 0 Comments

brexitইউরো সংবাদ: ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কিনা – তা নিয়ে ২৩ জুন একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে৷ সপ্তাহান্তের তিনটি জরিপে দেখা যায় যে, ‘‘রিমেইন” বা ইইউ-তে থাকার পক্ষপাতীদের অনুপাত কিছুটা বেড়েছে৷ লেবার রাজনীতিক জো কক্স-এর হত্যাকাণ্ডের পর রবিবার আবার দু’পক্ষের প্রচার অভিযান শুরু হয়৷

সপ্তাহান্তের তিনটি জরিপে ‘‘রিমেইন” আন্দোলনের গতিবেগ বাড়ার আভাস থাকায়, সোমবার মার্কিন ডলারের সঙ্গে ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময়মূল্য প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে যায়৷ জাপানি ইয়েনের সঙ্গে পাউন্ডের বিনিময়মূল্যও বাড়তে দেখা যায়৷ ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলিতে তেজীর লক্ষণ, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরের শেয়ারের দাম বাড়ে, রয়াল ব্যাংক অফ স্কটল্যান্ডের প্রায় সাত শতাংশ, লয়েডস-এর প্রায় ছয় শতাংশ৷

ব্রিটিনের জনগণ সব কিছু নিয়ে বাজি ধরতে ওস্তাদ৷ কাজেই সোমবার ‘‘রিমেইন” ভোটের জেতার ‘অডস’ বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে৷

একক বাজার ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের মতো লাভজনক সুবিধার প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে ব্রিটেনের কোনো আপত্তি নেই৷ কিন্তু শুধু পণ্য ও পরিষেবা নয়, নাগরিকদের অবাধ প্রবেশের অধিকার, অভিন্ন মুদ্রা, শরণার্থীদের আশ্রয়ের মতো বিষয় তাদের পছন্দ নয়৷ এই ভাবমূর্তি কতটা ঠিক, গণভোটে তার প্রমাণ পাওয়া যবে৷

‘লিভ’ ক্যাম্পেন ভোটারদের উদ্দেশ্য ইইউ-র আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মের বেড়াজাল থেকে ব্রিটেনকে মুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে৷ তাদের যুক্তি, নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ‘স্বাধীনতা’ ফিরে পেলে ব্রিটেন আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে, বিশ্বে তাদের মর্যাদা বাড়বে৷

ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে প্রবল অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে ব্রিটেনের ব্যবসা-বাণিজ্য জগত৷ তাদের মতে, ভবিষ্যতে ইইউ-র সঙ্গে সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হলেও প্রথম কয়েক বছরে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করবে৷

ব্রেক্সিট শিবির ব্রিটিশ ভোটারদের সামনে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে৷ যেমন তাদের দাবি, তুরস্কের নাগরিকরা নাকি অদূর ভবিষ্যতে দলে দলে ব্রিটেনে বসবাস করতে আসছে৷ ‘রিমেন’ শিবিরের বিরুদ্ধেও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে৷

ইইউ-র বাইরে ব্রিটেনের বিকল্প সম্পর্কে স্পষ্ট চালচিত্র দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্রেক্সিট শিবির৷ নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরলেও এই দুই দেশকে যে বাধ্যতামূলকভাবে ইইউ-র অনেক নীতি কার্যকর করতে হয়, সেই সত্যটা গোপন রাখা হচ্ছে৷

ভোটাররা ব্রেক্সিট-এর বিরুদ্ধে রায় দিলেও ব্রিটেন-এর সঙ্গে ইইউ-র সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে৷ সংহতি দেখানোর বদলে প্রায় প্রতিটি বিষয়ে আলাদা ছাড় দাবি করার ব্রিটিশ অভ্যাস নিয়ে বিরক্ত ইইউ-র বেশিরভাগ দেশ৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইইউ-তে ব্রিটেনের থাকার পক্ষেই তাঁর শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছেন৷  ওবামার একটি প্রবন্ধ  ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘ইইউ-র সদস্যপদ ব্রিটেনের বৈশ্বিক প্রভাব বাড়িয়েছে এবং ঐ সদস্যপদ দেশটির বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য হুমকি নয়৷” ওবামা বলেন, ব্রিটেন ইইউ-তে থাকবে কিনা – সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার শুধু ব্রিটিশ নাগরিকদেরই রয়েছে, তবে ব্রিটেনের ইইউ সদস্যপদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘গভীর আগ্রহ’ রয়েছে৷

জার্মানির সবচেয়ে বড় অলাভজনক সংস্থা ‘ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশন’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে তাদের অর্থনীতি ৩০০ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে৷

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, ইউরো সংবাদ, ইউরো সংবাদ, ইউরো-সংবাদ -UK, ব্রেকিং নিউজ, শীর্ষ সংবাদ

About the Author ()

Leave a Reply