২০ ডিসেম্বর বুধবার পিলখানায় বিজিবি দিবস অনুষ্ঠিত।

| ডিসেম্বর 20, 2017 | 0 Comments

20171220_111335বুধবার পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “আজ এখানে বিজিবিতে একটি নতুন পরিবেশ; এ পরিবেশ দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।

“আমি সবসময় এটাই চাই যে এ বাহিনী নিজস্ব শৃঙ্খলার বিষয়টা ভালভাবে তারা মান্য করবে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে।”

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পরের মাসেই বিডিআরে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহী জওয়ানদের হাতে মারা যান ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। রক্তাক্ত সেই বিদ্রোহে বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে জওয়ানদের বিদ্রোহ।

ওই ঘটনায় গত মাসে হাই কোর্টের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২২৮ জনকে তিন থেকে দশ বছরের সাজা দেওয়া হয়।

রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুনর্গঠন করা হয়। বাহিনীর নাম বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) বদলে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বদলে যায় পতাকা আর পোশাক।

সেই বিদ্রোহের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা সরকার গঠন করার পর মাত্র এক মাস ১৯ দিনের মাথায় একটা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে যায়। সেদিন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন। আমি তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন তাকে স্বাগত জানান।

সরকারপ্রধান সেখানে বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বিজিবি।

“বিজিবির সদস্য হিসেবে আপনাদের আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা প্রশ্নাতীত। কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, মানবিকতা এবং সর্বোপরি পারস্পরিক সহানুভূতিশীলতাই এ বাহিনীর বন্ধন দৃঢ়তর করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও বক্তৃতায় তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

মুক্তিযুদ্ধে তখনকার ইপিআরের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রহরেই এ বাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধে নামে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পিলখানা থেকে তৎকালীন ইপিআরের বেতার কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে সুবেদার মেজর শওকত আলীসহ চারজনের প্রাণদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

ইপিআরের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বাঙালি সৈনিক সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, ৮১৭ জন শহীদ হন। তাদের মধ্যে শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।

এছাড়া ইপিআরের আট জন বীর উত্তম, ৩২ জন বীর বিক্রম এবং ৭৭ জন বীর প্রতীক মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন করে বিজিবির ইতিহাস সমৃদ্ধ করেছেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তখনকার ইপিআরের সদস্যদের অবদান তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বিজিবির ভূমিকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়, সেখানেও যেমন বিজিবি ভূমিকা রাখে, আবার মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলাতেও বিজিবির বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে নাশকতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ হত্যা করা, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু করে রেল লাইন উপড়ে ফেলা, বাস-ট্রেন, গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা এ রকম বহু ঘটনায় বিজিবি সবসময় জনগণের জানমাল রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে এবং এ অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে কাজ করেছে।”

জাতীয় নির্বাচনগুলোতেও বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতির পিতা সীমান্ত আইন করে গিয়েছিলেন। আমরা ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা করে সেই সীমান্ত আইন আমরা বাস্তবায়ন করেছি। এক্ষেত্রে ছিটমহলবাসীকে বিজিবি সহযোগিতা করেছে। ছিটমহল বিনিময়েও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে।

“বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যায় মিয়ানমার সীমান্তে যখন উত্তেজনা হয় বা পার্বত্য এলাকায় যখন কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ হয়, প্রতিটি সময় বিজিবি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে।”

কুচকাওয়াজে সালাম নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ‘বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ’ অবদানের জন্য নয় জন বিজিবি সদস্যকে চলতি বছরের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ১৮ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), নয় জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সেবা পদক (বিজিবিএমএস) এবং ১৫ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড সেবা পদক (পিবিজিএমএস) পরিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বিজিবি  সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাদারিত্ব তৈরি, জওয়ানদের আবাসনসহ সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আপনারা সকলে দেশপ্রেম, সততা ও শৃঙ্খলার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

পরে বিজিবির দরবারেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, দেশের খবর, শীর্ষ সংবাদ

About the Author ()

Leave a Reply