প্যারিসে রাষ্ট্রদূতের সাথে শিক্ষার্থী ও হাইস্কীল্ডের নামে আলোচনা করলেন কারা।

| ফেব্রুয়ারী 7, 2018 | 0 Comments

গত ২৬ জানুয়ারি প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসে নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনের সাথে দূতাবাসে শিক্ষার্থী ও হাই স্কীল্ডদের সাক্ষাতকারের নামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আর এই সেমিনারের সহযোগিতার দায়িত্ব দেয়া হয় একটি ফেইস বুক গ্রুপকে। অথচ এমন একটি সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রে গত ৩০ বছরে তিলে তিলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোকে আমলেই নিলেন না দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। তাহলে হয়ত শিক্ষার্থী ও হাই স্কীল্ডের নামে এমন তামাশা দেখতে হতোনা কমিউনিটিকে।

এর ফলে যা হল, মূলত ঐ ফেইস বুক গ্রুপ ও অন্য আরেকটি বিতর্কিত সংগঠন নিজেরা কিছু লোকজন গিয়ে পরস্পর পরস্পরের গুণগান গাইলেন আর স্তুতি করলেন রাষ্ট্রদূতের সামনে।

যেই ফইসবুক ভিত্তিক গ্রুপটিকে দূতাবাস সহযোগীতার দায়িত্ব দিয়েছেন ঐ গ্রুপটি ইতিমধ্যে জামাত-বিএনপির রাজনৈতিক সংকটের ফলে উদ্ভাবিত  নতুন কৌশল হিসেবে কমিউনিটিতে প্রতিয়মান হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে জামাত-বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয়ের ফলে তারা বিভিন্ন ধরণের সামাজিক সংগঠন ও ভার্চুয়াল গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্যারিসেও কিছু সামাজিক ও psychology essay ভার্চুয়াল  গ্রুপ তৈরি করে তারা। এখন চুপচাপ কিছু সামাজিক কাজ করে খোলস পাল্টালেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন সময় মতো এরা ঠিকই তাদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিফলনে তৎপর হবেন।

আর দূতাবাস যে ফেইস বুক গ্রুপটিকে সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগীতার দায়িত্ব দিয়েছেন, তার প্রধান এডমিন সম্প্রতি তার বোনকে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ থানার সিরাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির সাথে বিয়ে দেয়ায় তার রাজনৈতিক আদর্শের স্পষ্ট প্রতিফলন হয়েছে।

তাছাড়া এই ফেইস বুক গ্রুপটি তাদের বেশ কিছু অনুষ্ঠানে একসময়কার সৌদি আরব জামাতের নেতা ও বর্তমানে ফ্রান্সে জামাতের সক্রিয়  এক্টিভিস্ট আব্দুল মান্নান আজাদকে অন্যতম প্রধান অতিথি করে তাদের জামাত সংশ্লিষ্টতার স্বাক্ষর ইতিমধ্যেই রেখেছে।

এছাড়া অন্য যে সংগঠনের নামে মিটিংএ স্তুতি করা হয়, রাষ্ট্রদূত নবাগত হওয়ার কারণে হয়তো অবগত নন যে এই সংগঠনটির বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ পরো কমিউনিটিতে সমালোচনার ঝড় বইছে।

মূলত সংগঠন দুটি বেশ কিছু সময় ধরে পারস্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। আর তাই মিটিংএ তারা কৌশলে পরস্পরের স্তুতি করতে থাকে।

তাই দূতাবাস যেমন প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও প্রয়োজন নিশ্চত করবেন ঠিক তেমনি দূতাবাসে রাষ্ট্র ও সরকারের ইমেজ এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর একারণে পরবর্তীতে এই ধরণের সেমিনার বা মিটিং আয়োজনের ক্ষেত্রে দূতাবাস কর্তৃপক্ষের আরও সতর্কতা ও যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে কমিউনিটির প্রবীণ নেত্রীবৃন্দ ও ফ্রান্স প্রবাসী সাধারণ বাংলাদেশীরা মনে করছেন।

Category: Uncategorized

About the Author ()

Leave a Reply