বেরলুসকোনিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন তার প্রেমিকা

| সেপ্টেম্বর 26, 2013 | 0 Comments

ফ্রান্সেসকা পাসকেল

ইউরোবিডি২৪নিউজঃ ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেরলুসকোনির প্রেমিকা এবার তাকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ২৮ বছর বয়সী ফ্রান্সেসকা পাসকেল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে জানিয়েছেন কিশোরী বয়সেই তিনি বেরলুসকোনির প্রেমে পড়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি তাকে বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনকে ফ্রান্সেসকা বলেছেন বেরলুসকোনির স্ত্রী ভেরোনিকার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরই তিনি ৭৭ বছর বয়সী বেরলুসকোনিকে বিয়ে করবেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের ইতালি সংস্করণের চলতি সংখ্যায় বেরলুসকোনির সঙ্গে ফ্রান্সেসকাকে নিয়েই প্রচ্ছদ করা হয়েছে। ফ্রান্সেসকা এতোদিন বেরলুসকোনির ব্যাপারে নিজের আবেগ গোপন রেখেছিলেন। কারণ, তার মা তাকে বলেছিলেন যাকে তিনি ভালোবাসেন তিনি তার বাবার বয়সী। ফ্রান্সেসকা এবার বলছেন এখন কেবল বেরলুসকোনি হ্যাঁ বললেই সব হয়ে যাবে। ফ্রান্সেসকা এর আগে অপরিণত বয়সী পতিতার সঙ্গে যৌনতার অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর কেলেঙ্কারির পাশাপাশি কয়েক মাস আগে নির্বাচনে পরাজয়ের মতো বেরলুসকোনির বিপদের সময়ে তার পাশে থেকেছেন। এসব অভিযোগের কারণে বেরলুসকোনির প্রতি তার ভালোবাসায় ঘাটতি পড়েনি। ২০০৬ সালের অক্টোবরে রাজনৈতিক এক সমাবেশে ফ্রান্সেসকা প্রথমবারের মতো বেরলুসকোনির সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেছেন আমি যখন ছোট কিশোরী ছিলাম তখনই তাকে বিয়ে করার বিষয়টি আমার মাথায় ঢুকে গিয়েছিল। ফ্রান্সেসকা বলেছেন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার টেলিফোন নাম্বারটি তাকে দিতে পারি কিনা। সেই সঙ্গে তার নাম্বারটিও আমি চেয়েছিলাম। এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, তুমি বেশ জোর করতে পারো। তখন বেরলুসকোনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ভেরোনিকা লারিওকে বিয়ে করেছিলেন। এতে ফ্রান্সেসকার মন ভেঙে গিয়েছিল। ফ্রান্সেসকা বলেছেন বেরলুসকোনির প্রতি তার ভালোবাসার বিষয়টি বাবা-মাকে তিনি জানিয়েছিলেন। তারা তখন বলেছিলেন তারাও বেরলুসকোনিকে শ্রদ্ধা করেন। তবে বয়সে তিনি ফ্রান্সেসকার বাবার মতো। এর পরেও ফ্রান্সেসকা বেরলুসকোনির পিছু ছাড়েননি। বেরলুসকোনিও তাকে একবার বলেছিলেন এটা কখনোই সম্ভব নয়। ফ্রান্সেসকা বয়সে তার চেয়ে অনেক ছোট।

ফ্রান্সেসকাকে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শোগার্ল হিসেবে দেখা গেছে। বেরলুসকোনির মিলানের কাছের বিলাসবহুল ভবনে আয়োজিত বুঙ্গা বুঙ্গা পার্টিতেও তিনি যোগ দিয়েছেন। সেই পার্টির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ভ্যানিটি ফেয়ারকে তিনি বলেছেন পার্টিতে উপস্থিত মেয়েরা নিজেদেরকে তার দিকে ছুড়ে ছুড়ে দিতো। তবে তিনি তাদের প্রতি কোন ধরনের ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন না। ফ্রান্সেসকা বলেছেন তার চোখে আমি ছিলাম বিভ্রান্ত, স্বপ্নচারী কিশোরী। বিষয়টি আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। আমি ওইসব ডিনার পার্টিতে যেতাম না। কারণ সেখানে আমি নিজেকে নিবৃত করে রাখতে পারতাম না। ২০১১ সালে বেরলুসকোনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে ফ্রান্সেসকা গাড়ি নিয়ে মাঝে মধ্যে তার রোমের বাসভবনে চলে যেতেন। এসি মিলানের ফুটবল খেলা দেখার সময় দুজনকে একসঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা গেছে। ফ্রান্সেসকা বলেছেন প্রথমে আমি কেবল তার কাছাকাছি থেকে তার সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিজেকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন তার প্রতি আমার ভালোবাসা আমাকে সুখী করে তুলেছে। আমি তাকে চেয়েছি। তার পাশে থেকেছি এবং তাকে আমার ভালোবাসায় বেঁধেছি। বাস্তবিক অর্থেই আমি তার জন্য সব করেছি। আর এখন কেবল তার হ্যাঁ বলার অপেক্ষায় আছি। গত বছর ডিসেম্বর মাসে বেরলুসকোনি ফ্রান্সেসকার সঙ্গে তার যোগাযোগ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বেরলুসকোনি তাকে ভেতর এবং বাইরের সৌন্দর্য্যের অধিকারিণী বলে উল্লেখ করেছেন। আর ভ্যালেন্টাইন’স ডেতে তাদের দুজনকে রোমের একটি রেস্টুরেন্টে আবেগঘন অবস্থায় চুম্বন করতে দেখা গিয়েছিল। বেরলুসকোনি এর আগেও দুবার বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী’র ঘরে তার দুটি এবং দ্বিতীয় স্ত্রী’র ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। বেরলুসকোনি ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেছেন, গত কয়েক বছর চরম দুঃসময়ে ফ্রান্সেসকা আমার পাশে থেকেছে। সে আমাকে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই সুখ উপহার দিয়েছে। সে আমাকে একজন নারীকে আন্তরিক ভাবে ভালোবাসায় বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে।

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, ইউরো সংবাদ, ইউরো সংবাদ, ইউরো-সংবাদ - Italy, ইতালি, ইতালি, প্রচ্ছদ, শীর্ষ সংবাদ

About the Author ()

Leave a Reply