বুদ্ধদেব বসুর- ‘রাত ভ‘রে বৃষ্টি’ দেহ ও মনের বন্ধুত্বের ও বন্ধ্যত্বের জটিল কুঁড়েঘর।

| ডিসেম্বর 14, 2012 | 0 Comments

শিল্প-সাহিত্য: বুদ্ধদেব বসুর রাত ভ’রে বৃষ্টি উপন্যাস যেমন একসময়ের বহুল পঠিত, তেমনই বিতর্কিতও বটে। কলকাতা শহরে মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত নারী পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্কেও নানা সূক্ষ্নাতিসূক্ষ জটিলতা, বিশ্বাস অবিশ্বাসের সংশয়ী প্রকাশ যেমন ঘটেছে উপন্যাসটিতে তেমনই আবার

প্রচলিত যৌন নৈতিকতার বা শারীরিক সম্পর্কের প্রচলিত প্রথাগত মূল্যবোধের উপর তীব্র আঘাতও টের পাওয়া যায়। উপন্যাসটি প্রকাশের পর থেকেই এর শ্লীলতা-অশ্লীলতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে, একসময় সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে বিদগ্ধ পাঠক মহলে। এর ফলে শুরু থেকেই উপন্যাসটির পাঠক কম ছিলনা, আজও সমান জনপ্রিয়। বুদ্ধদেবের সর্বাধিক পঠিত ও বিক্রীত উপন্যাস এটি।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মানসিক ও জৈবিক অস্থিরতার নানা টানাপোড়েন জীবন্তভাবেই চিত্রায়িত হয়েছে উপন্যাসে। ক্ষুধিত কুমারীত্ব থেকে আরও ক্ষুধিত নারীত্বে প্রমোশন পাওয়া, ছাত্রী থেকে স্ত্রী হওয়া নায়িকা মালতীর প্রচলিত সমাজ সংসারের মূল্যবোধকে ভেঙে ফেলতে চায় স্বামী নয়নাংশু। মধুর, সুন্দর, পবিত্র প্রেমের আদর্শ ধারণা ও কল্পনাকে শরীর দিয়ে কলঙ্কিত করতে চায়না নয়নাংশু। বিয়ের প্রথম রাতেও মালতীর কামনা-বাসনাকে বোঝেনা নয়নাংশু। উপেক্ষিত মালতীর কাছে “ভালবাসা জৈব, ভালবাসা যৌন, শরীর না থাকলে কিছু্ই থাকেনা ভালবাসায়।’’ তাই স্বামীর তথাকথিত বন্ধু, স্থূল, অশিক্ষিত ও বেপরোয়া জয়ন্তর সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের পরও তার মনে হয় সে কিছু ভুল করেনি বরং যেন তারই জন্য একটা বাঁধ ভেঙে বন্যা আর বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেল মালতীকে। এমনই এক আত্নতৃপ্তির কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায় উপন্যাস। সুস্পষ্ট পরকীয়ার গভীর আবেশেও মানুষ সচেতন থাকে বলেই লেখক প্রশ্ন করেন, “প্রেম কী তাহলে বেপরোয়া উদ্যম নয়?”
এ উপন্যাসে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সংকটের চরম ও অর্ন্তগূঢ় জটিলতা আমরা আবিস্কার করি। মানুষকে দেখার, বোঝার, যাচাই করার চেষ্টার অন্ত নেই কথাশিল্পী বুদ্ধদেব বসুর। উপন্যাসের সঠিক অর্থ যদি মানুষের বাস্তব জীবনকে খোঁজা হয় তাহলে রাত ভ’রে বৃষ্টি সার্থক উপন্যাস হয়ে ওঠার সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ একটি অসমাপ্ত উপন্যাস। জননন্দিত এ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে

Category: শিল্প-সাহিত্য

About the Author ()

Leave a Reply