কম খেতে চাই, কিন্তু খিদে?

| এপ্রিল 15, 2014 | 0 Comments

হেল্থ ইস্যুজ: খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ বা ডায়েট শুরু করার পর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খিদে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রচণ্ড খিদে পেয়ে যাচ্ছে, অকল্পনীয় ধৈর্য ও সংযমের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। একসময় অধৈর্য হয়ে তা ছেড়েও দিচ্ছেন, ফিরে যাচ্ছেন আগের অবস্থায়।

কেন খিদে, কেন তৃপ্তি?
আমাদের মস্তিষ্কে রয়েছে খিদে ও তৃপ্তির কেন্দ্র। এরাই তৈরি করে খিদে ও তৃপ্তির অনুভূতি। কিন্তু বার্তা আসে একটু দূর থেকে। সেখানে কাজ করে মূলত দুটি হরমোন। পেট খালি থাকলে পাকস্থলি থেকে নিঃসৃত হয় গ্রেলিন নামের হরমোন, যা স্নায়ু বেয়ে মস্তিষ্কে খিদে কেন্দ্রের সুইচ অন করে। পেট ভরে গেলে বন্ধ হয় এই বার্তা পাঠানো। আবার দেহের চর্বি কোষ থেকে তৈরি আরেকটি হরমোন লেপটিন, যা তৃপ্তি কেন্দ্র চালু করে। কিন্তু মোটা ও চর্বিবহুল মানুষের শরীরে অতিরিক্ত লেপটিন অনেক সময় এই তৃপ্তি কেন্দ্রকে অনুভূতিহীন করে দেয়। ফলে কিছুতেই তৃপ্তি হয় না, কেবল খেতে মন চায়। এটা মনের খিদে, আসল খিদে নয়।

তৃপ্তিবর্ধক খাবার
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কম খেয়েও তৃপ্তির অনুভূতি জাগায় সেদ্ধ আলু, ওটমিল বা যবের তৈরি খাবার, মাছ, চর্বিহীন মাংস বা ফলমূল। আবার ক্যান্ডি বার, চকলেট, ডোনাট বা পটেটো চিপসজাতীয় খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকলেও তাতে খিদে তো মেটেই না, বরং আরও খেতে ইচ্ছে করে।

কীভাবে বাড়াবেন তৃপ্তি?
১. প্রতি বেলার খাবারে বেশ খানিকটা আমিষ রাখুন। আমিষ ক্ষুধাবর্ধক গ্রেলিনের নিঃসরণ কমায়। মাছ, চর্বিহীন মাংস, ডিম, ডাল ইত্যাদি তৃপ্তি যোগায়।
২. পেট দ্রুত ভরতে আঁশযুক্ত খাবারের জুড়ি নেই। খোসাসুদ্ধ ফলমূল, গোটা শস্য ও সবজি খাবার অভ্যাস করুন।
৩. একবারে পেট ভরে না খেয়ে বারবার অল্প খাবার খান। বারবার সামান্য আহার বিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে, বেশি ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং খিদে কেন্দ্রকে চালু করতে বাধা দেয়।
৪. মূল আহারের মধ্যে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাবেন, যা সহজে তৃপ্তি আনে। যেমন: লবণহীন বাদাম, শস্য যুক্ত ক্র্যাকার, লো ফ্যাট পনির ও দই বা ফল। মূল খাবারের আগে ক্যালরিহীন স্টার্টারও খিদে কমাতে সহায়ক, যেমন এক বাটি গরম সবজি স্যুপ।
৫. খাবারের সময় কখনো পেরিয়ে যেতে দেবেন না। এক বেলা ঠিকমতো না খেলে পরের বেলা পাগলের মতো খিদে পাবেই। খাদ্য গ্রহণের সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করলে নিজের খিদে ও তৃপ্তি কেন্দ্রকে শাসন করা কোনো বিষয়ই নয়।

ডা. তানজিনা হোসেন

  হরমোন ও ডায়াবেটিস বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল।

Category: 1stpage, হেল্থ ইস্যুজ

About the Author ()

Leave a Reply