• ২১ আশ্বিন ,১৪৩৩,06 Oct ,2026
  • ব্রেকিং নিউজ : আবারও হাসপাতালে মাহাথির মোহাম্মদ

ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং ২০২৬ সালের ছাত্র বিক্ষোভ।

| অক্টোবর 6, 2026 | 0 Comments

ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। প্যারিসের ছাত্র আন্দোলন ইতিহাস ও বর্তমান—দুই প্রেক্ষাপটেই অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে।
​প্যারিসের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন এবং ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক লিসে (High School) ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা : ​
​১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৬৮ সালের ‘মে আন্দোলন’
​প্যারিসের ছাত্র আন্দোলনের কথা বললে সর্বপ্রথমে আসে ১৯৬৮ সালের মে মাসের আন্দোলন (Mai 68)।
​পটভূমি: নানতেরে (Nanterre) ও সার্বোন (Sorbonne) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থা, রক্ষণশীল সমাজ নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন।
​প্রভাব: অল্প দিনের মধ্যেই এই আন্দোলন শ্রমিক ধর্মঘটের সাথে যুক্ত হয় এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এটি প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল (Charles de Gaulle)-এর সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও সামাজিক স্বাধীনতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


​২. ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক আন্দোলন: শিক্ষা খাতে সংকট ও বাজেট ছাঁটাই
​২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্যারিসসহ পুরো ফ্রান্সে লিসে (High School) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবার ব্যাপক বিক্ষোভ ও স্কুল-কলেজ অবরোধ শুরু করেছে।
​আন্দোলনের প্রধান কারণসমূহ:
​শিক্ষক ও কর্মীর অভাব: সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষকের ঘাটতি এবং বাজেটে শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদ।
​জরাজীর্ণ ভবন ও অবকাঠামো: শ্রেণীকক্ষের বাজে অবস্থা ও স্থান সংকুলান না হওয়া।
​অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ: সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা পাঠদানের ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি।
​প্লাটফর্ম সংক্রান্ত অসন্তোষ: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ওয়েব সিস্টেম ‘Parcoursup’-এর ত্রুটি।
​আন্দোলনের পদ্ধতি:
শিক্ষার্থীরা ময়লার বিন, বাইসাইকেল এবং কাঠ দিয়ে স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ (Blockade) করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সার্বোন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিয়েন্স পো (Sciences Po)-সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্যারিসের শত শত স্কুলে এই ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ে।


​৩. সরকারের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
​নিরাপত্তা পদক্ষেপ: আন্দোলন উগ্র রূপ নিলে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়।
​রাজনৈতিক বিতর্ক: বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে সমর্থন জানালেও সরকার এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত বলে দাবি করে।


​
​প্যারিসের ছাত্র আন্দোলন কেবল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি প্রায়শই ফ্রান্সে বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ভিত্তি গড়ে তোলে।

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, ইউরো সংবাদ, ইউরো সংবাদ, ইউরো-সংবাদ - France, প্রচ্ছদ, শীর্ষ সংবাদ

About the Author ()

Leave a Reply