বরফ গলার ইঙ্গিত- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

| জানুয়ারী 18, 2016 | 0 Comments
image_1431_219049

শিক্ষার্থীশূন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ

দেশের খবর: কর্মবিরতির সপ্তমদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে শিক্ষক সমিতির নেতাদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় গণভবনে তাদের এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা বলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মোর্চা শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন অষ্টম বেতন কাঠামোয় ‘অসঙ্গতি’ নিরসনের দাবিতে চলমান শিক্ষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

অধ্যাপক ফরিদ রোববার বলেন, শিক্ষক সমিতির ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন তারা। নয় মাস আগে অষ্টম বেতন কাঠামোর প্রস্তাব আসার পর গ্রেডে অবনমন এবং সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।

পরে শিক্ষকদের দাবি পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর প্রকাশিত গেজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি, অভিযোগ শিক্ষকদের।

দাবি আদালয়ে গত সোমবার থেকে সারাদেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শিক্ষকরা, যাতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষকদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুললেও শিক্ষক সমিতি নেতা ফরিদ উদ্দিন একাধিবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ মিনিট বসতে পারলে এই সঙ্কটের সুরাহা বলে তারা মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলেও জানান অধ্যাপক ফরিদ। গত আট মাসে কয়েক দফা চিঠি পাঠিয়ে তার কোনো সাড়া পাননি বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠি ‘আমলাদের বলয় ভেঙে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন।

সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘গত আট মাসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আমরা অন্তত ছয় বার চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া পাইনি। একটি মহল প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষকদের বক্তব্যগুলো খ-িতভাবে উপস্থাপন করেছে। আমরা মাত্র পাঁচ মিনিট সময় পেলেও তাকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে পারতাম।’

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অচলাবস্থার দ্রুত নিরসন চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে, আবার ক্লাস শুরু হবে, সে নিশ্চয়তা না থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা করছেন তারা। শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও কর্মবিরতির মতো কর্মসূচিকে সমর্থন করছেন না শিক্ষার্থীদের অনেকে।
অষ্টম বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড বহাল, গ্রেড সমস্যা নিরসন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেলের দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এখনো দাবি পূরণে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষকরা কোনো সাড়া পাননি।

বর্তমানে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষক ও প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন।

শিক্ষকদের এই আন্দোলন নিয়ে চারুকলার শিক্ষার্থী রফিকুন্নবী বলেন, এমনিতেই তাদের অনুষদে সেশন জট আছে। শিক্ষকদের এই কর্মবিরতির ফলে সেশনজট আরো বাড়তে পারে। তার মতে, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু তার প্রশ্ন, পড়ালেখা বন্ধ করে কেন? তিনি দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চান।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হক চান, দ্রুত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান হোক। সরকার ও শিক্ষকরা একসঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করবে বলে তিনি আশা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে এ বছর ভর্তি হয়েছেন কাশফিয়া হোসেন। তাদের শুধু পরিচিতি ক্লাস হয়েছে। শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে নিয়মিত ক্লাস এখনো শুরু হয়নি। তারপরও তিনি প্রায় প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘কী করব বুঝতে পারছি না। চাই, দ্রুত সমাধান হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছোটন দেবনাথ মনে করেন, সরকার ও শিক্ষক দুই পক্ষই অনড় থাকলে কোনো সমাধান হবে না। তার পরামর্শ, কাউকে না কাউকে ছাড় দিতে হবে। তবে শিক্ষকদের মর্যাদা সবার ওপরে হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

নবীন খান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে তিনি জেনেছেন শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা।

শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেকে ইতিমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। তবে যাদের সামনে পরীক্ষা বা টিউশনি আছে_ এমন অনেকে হলে আছেন।

শিক্ষকদের ‘ক্লাসে ফেরাতে’ রিট
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্লাসে ফেরানোর নির্দেশনা ও তাদের চলমান কর্মবিরতির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট করেছেন এক আইনজীবী।
রিটে অর্থ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রোববার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলি আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন। আজ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে জানিয়েছেন আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ।

প্রায় নয় মাস আগে অষ্টম বেতন কাঠামোর প্রস্তাব আসার পর গ্রেডে মর্যাদার অবনমন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করেন।

পরে শিক্ষকদের দাবি পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ৬ ডিসেম্বর শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর প্রকাশিত গেজেটে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে ২ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

দাবি পূরণের জন্য তারা ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, দেশের খবর, স্টুডেন্ট কর্ণার

About the Author ()

Leave a Reply