ফ্রান্সে এ্যাসোসিয়েশন পরিচালনার নিয়ম ও পরিচালনা পর্ষদের দায়বদ্ধতা।

| ডিসেম্বর 26, 2017 | 0 Comments

20171226_045832১৯০১ সালের এ্যাসোসিয়েশন আইন: ফ্রান্সে সাধারনত  এ্যাসোসিয়েশন বলতে বোঝায় একাধিক ব্যক্তি (দুই বা ততোধিক) নিঃস্বার্থ উদ্দেশ্যে নিজেদের লাভের কথা চিন্তা না করে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে কোন প্রজেক্ট বা কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করে একসাথে কোন কাজ করার উদ্দেশ্যে মিলিত হওয়া।

মূলত ১৯০১ সালের ১ লা জুলাই  Association loi de 1901 আইনের মাধ্যমে ফ্রান্সে এ্যাসোসিয়েশন গঠনের প্রকৃত স্বাধীনতা দেয়া হয়। যা কিনা La loi Waldeck-Rousseau de 1er juillet 1901 নামেও পরিচিত।

একটি এ্যাসোসিয়েশন মূলত এর সদস্যদের অনুদান, রাষ্ট্রীয়  অথবা স্থানীয় সরকারী সহায়তা, ডোনেশন অথবা অন্য কেউ যদি এ্যাসোসিয়েশনকে স্পন্সর করে – এই সকল অর্থের সমন্নয়ে চলে থাকে। যে জনগোষ্ঠীকে সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ্যাসোসিয়েশন তাদের অর্থে নয়।

সাধারণত এ্যাসোসিয়েশন গুলো অলাভজনক হয়ে থাকে। আর তাই এ সকল অলাভজনক এ্যাসোসিয়েশনের সকল ধরণের ট্যাক্স( যেমন TVA, impot sur les societes, contribution economiques territoriale) মওকুফ করা হয়।

এ্যাসোসিয়েশন গুলো সাধারণত সেচ্ছাসেবী সংগঠন হয়ে থাকে। সর্বোচ্ছ সংখ্যক সেচ্ছাসেবকই কেবল একটি এ্যাসোসিয়েশনের মূল উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে পারে।

একটি অলাভজনক (Non lucratif) এ্যাসোসিয়েশন যে কোন সময় তার ট্যাক্স মওকুফ সুবিধা হারাতে পারে যদি এসেসম্যান্ট বা পুনঃনিরিক্ষণে অনিয়ম অথবা ব্যবসায়ীক লাভের সন্ধান পাওয়া যায়। আর যদি কোন এ্যাসোসিয়েশন লাভজনক প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মতই সকল প্রকার ট্যাক্স প্রদান করতে হবে।

একটি এ্যাসোসিয়েশনকে অলাভজনক (Non lucratif) প্রমাণ করার জন্য, পরিচালনা পর্ষদ লাভের অংশ গ্রহণ করেন না শুধু মাত্র এটাই যথেষ্ট নয়। উপরন্তু একটি অলাভজনক এ্যাসোসিয়েশন অবশ্যই লাভজনক সেক্টরের কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগী হতে পারবেনা। আর যদি প্রতিযোগী হয়, তাহলে পরিচালকরা লাভের অংশ না নিলেও সেটি আর অলাভজনক এ্যাসোসিয়েশনের মর্যাদা ভোগ করবেনা অর্থাৎ সকল প্রকার ব্যবসায়ীক ট্যাক্স প্রদান করা বাধ্যতামূলক হবে।

কোন এ্যাসোসিয়েশন ব্যবসায়ীক ট্যাক্সের আওতায় আসবে কিনা তা যাচাই বাছাইয়ের পদ্ধতি ঠিক করার জন্য ১৯৯৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা দেয়া হয়(Ref: Instruction no.170 of 15 sept 1998-DGI)। যাতে ৩ ধাপের নিচের পদ্ধতিটি পর্যায়ক্রমিক ভাবে অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রথম ধাপ: পরীক্ষা করা হোক পরিচালনা পর্ষদ কোন ধরণের আর্থিক বা অন্যকোন ধরণের সুবিধা ভোগ করেন কিনা(Chapter1,sec-1): প্রতিষ্ঠানটি উদ্যোক্তাদের দ্বারা সেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত,  তারা তাদের শ্রমের বিনিময়ে কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধা গ্রহণ করেননা। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ লাভ বন্টন করা যাবেনা, তা যে কৌশলেই হোক না কেন। এ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বা তাদের উত্তরসূরিরা এ্যাসোসিয়েশনের কোন একটি সম্পদের কোন একটি অংশের মালিকানা দাবী করতে পারবেননা তাদের দেয়া সেচ্ছা শ্রমের বিনিময়ে। উপরের কোন এক উপায়ে যদি পরিচালনা পর্ষদকে কোন প্রকার সুবিধা ভোগ করতে দেখা যায়,  তাহলে ঐ এ্যাসোসিয়েশনের “Non lucratif” স্ট্যাটাস বাতিল হবে এবং তাদেরকে ব্যবসায়ীক সকল প্রকার ট্যাক্স  প্রদান করতে হবে।

২য় ধাপ: যদি পরিচালনা পর্ষদ সুবিধা ভোগী না হয়, তখন দেখা হোক এ্যাসোসিয়েশনটি কমার্শিয়াল সেক্টরের কোন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতামূলক  কিছু করছে কিনা(Chapter-1, sec-2-A): যদি এটি কোন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতামূলক কোন কর্মকান্ড না করে এবং এর পরিচালনা পর্ষদ সুবিধা ভোগী না হয়, তাহলে এ্যাসোসিয়েশনটি ট্যাক্সের আওতায় আসবেনা।

৩য় ধাপ: যদি এটি কমার্শিয়াল সেক্টরের সাথে প্রতিযোগিতা করে, দেখা হোক এটি ঐ সকল কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠানের মতই চলছে কিনা( Chapter -1,sec-2-B): এটি যাচাইয়ের জন্যে ৪টি বিষয়কে আমলে নিতে হবে এবং তা নিম্নোক্ত পর্যায়ক্রমিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিষয় গুলো হল, সংগঠনটির প্রস্তাবিত “বস্তু/সেবা-Product”, চিহ্নিত বা টার্গেটেড “জনগোষ্ঠী -Public”, নির্ধারিত “মূল্য-Prices” এবং সংগঠনটির “বিজ্ঞাপন- Publicity”। যাকে সংক্ষেপে 4P’s rule বা চার পি(P) এর নিয়ম বলা হয়।

সেবা/বস্তু(Product):সেবা/ বস্তটি যদি লাভজনক সেক্টরে না থাকে বা সন্তোষজনক না হয়।

চিহ্নিত জনগোষ্ঠী (Public) : সেবা/বস্তুটি এমন জনগোষ্ঠীর নিকট পৌঁছাতে হবে, যারা সাধারণত অন্য কোথাও থেকে  ঐ সেবা/ বস্তটি পাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা রাখেনা( যেমন- দরিদ্র, অক্ষম, বেকার, একক অভিভাবক পরিবার এবং নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী ইত্যাদি)।

মূল্য(Price): সেবা/ বস্তটির মূল্য অবশ্যই বাজার মূল্যের চেয়ে কম হতে হবে( কমপক্ষে ৩০% বা তার বেশী পার্থক্য থাকতে হবে বাজার মূল্যের চেয়ে)। নির্ধারিত মূল্যটি অবশ্যই সরকারী কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।

বিজ্ঞাপন(Publicity) : এ্যাসোসিয়েশন কোন ধরণের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেনা তাদের সেবা/বস্তুটির প্রচারের জন্য, যেটা ব্যবসায়ীরা করে থাকে।

উপরোক্ত বিষয় গুলো আমলে নিয়েই বিবেচনা করা হয় একটি এ্যাসোসিয়েশন অলাভজনক ( Non lucratif) নাকি লাভজনক(Lucratif) ক্যাটাগরির আওতায় আসবে। আর যদি কোন এ্যাসোসিয়েশন লাভজনক ক্যাটাগরির আওতায় আসে, তাহলে তা ট্যাক্স মওকুফের সুবিধা হারাবে এবং সকল ধরণের ব্যবসায়ীক ট্যাক্স প্রদান করতে হবে।

১৯০১ সালের আইনের আওতায় কোন এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ তাদের কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভুল/অনিয়মের জন্য দ্বায়ী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যদি তাদের ভুল/ অনিয়মের জন্য এ্যাসোসিয়েশনের কোন ক্ষতি বা মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়, তবে তিনি বা তারা আদালতের দ্বারা দায়বদ্ধ হতে পারেন। একটি এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদকে  তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়:

১) পরিচালনা পর্ষদ দোষী সাব্যস্ত হবেন যদি তারা তাদের এ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত স্ট্যাটাস ধারী  কর্মকান্ডের আওতার বাইরে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।যেমন : স্ট্যাটাস লঙ্ঘন, অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক ব্যবস্থাপনা, কোম্পানির উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কহীন কোন কাজ করা।

২) ১৯০১ সালের আইনের আওতাধীন এ্যাসোসিয়েশন গুলো প্রিজুডিশের আওতায় আসবে যদি হিসাবে অনিয়ম ও আর্থিক ভারসাম্য প্রভাবিত হয়।

৩) এ্যাসোসিয়েশনটির ক্ষমতাধর ব্যক্তি যদি একমাত্র ব্যক্তি হয় এবং তিনি যদি কোন অনিয়ম বা দুর্নীতিতে দায়বদ্ধ হন তবে তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় ও তার দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়।

কোড পেনাল বা অপরাধ আইন অনুযায়ী :

কোড পেনালের ৪৩২-১২ ধারা অনুযায়ী কোন এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদের কারো বিরুদ্ধে যদি কোন ধরণের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় অথবা অবৈধ কোন লাভ বা সুবিধা ভোগের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড  এবং সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ ইউরো অর্থদণ্ড  হতে পারে।

এছাড়া কোড পেনালের ৩১৪-১ ধারা অনুযায়ী,  প্রত্যেকটি এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদকে এ্যাসোসিয়েশন পরিচালনার আইনের প্রতি বিশ্বস্ত ও দায়বদ্ধ থাকতে হবে। অন্যথায়, বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধে(Delit d’abus de confiance) কোড পেনাল অনুযায়ী  সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩,৭৫,০০০ ইউরো অর্থদণ্ড  হতে পারে। আইন অনুযায়ী  বিশ্বাস ভঙ্গের কিছু উদাহরণ হল:

১)পরিচালক পদাধিকার বলে যদি এ্যাসোসিয়েশনের কোন অর্থ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করেন।

২) এ্যাসোসিয়েশনের অর্থ থেকে যদি ব্যক্তিগত কোন খরচ করেন।

৩)সপ্তাহে ৭০ ঘন্টার বেশী কাজ করেন এবং তার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেন।

৪)নিজেকে এ্যাসোসিয়েশনের মালিক মনে করা এবং সেখান থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করা।

৫) কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ধরনের অর্থিক বা অন্য কোন সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে তাকে এ্যাসোসিয়েশন থেকে কোন সুবিধা দেয়া বা এ্যাসোসিয়েশনের কোন একটি অংশ ব্যবহার করতে দেয়া।

৬) এ্যাসোসিয়েশনের অর্থে কোন ব্যক্তিকে রেস্টুরেন্টে খাবারের আমন্ত্রণ জানানো।

৭) এ্যাসোসিয়েশনের অর্থে কোথাও ভ্রমণ করা বা ব্যক্তিগত কোন অনুষ্ঠানে খরচ করা।

৮) ব্যক্তিগত কাজে এ্যাসোসিয়েশনের কোন গাড়ি ব্যবহার করা, ইত্যাদি।

উপরের যে কোন একটি কারণে একটি এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ বিশ্বস্ততা  ভঙ্গের অপরাধে(Delit d’abus de confiance)  দন্ডিত হতে পারেন।

সুতরাং আইন দ্বারা এটি স্পষ্ট  যে, একটি এ্যাসোসিয়েশন কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, হোক তা লাভজনক বা অলাভজনক। এটি একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান। তাই এ্যাসোসিয়েশনের অর্থ বা সম্পদ বন্টন করা অথবা যাচ্ছে তা ভাবে খরচ করা যায় না। সর্বোপরি  সেবা/বস্তু বিনা মূল্যে বা সরকার অনুমোদিত নির্ধারিত নামমাত্র মূল্যে টারগেটেড জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোই একটি এ্যাসোসিয়েশনের আইনগত মূল উদ্দেশ্য।

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, ইউরো সংবাদ, ইউরো সংবাদ, ইউরো-সংবাদ - France

About the Author ()

Leave a Reply