‘আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে তবে একটা কিন্তু আছে’-নির্বাচন কমিশনার

| নভেম্বর 13, 2017 | 0 Comments

4bn316f8c6d7b4xdar_800C450দেশের খবর: বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে। তবে এখানে একটা কিন্তু আছে। সেনাবাহিনীকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাব, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিভাবে যুক্ত হবে, সেটি বলার সময় এখনও হয়নি। কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

গত (সোমবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনা মোতায়েন ছাড়া সংসদ নির্বাচন নয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা এমন দাবির পরদিন এ অবস্থানের কথা জানান এই নির্বাচন কমিশনার। রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) হবে না, ইভিএম চলবে না, ইভিএম বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। শুধু মোতায়েন করলে হবে না। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্টেরিয়াল পাওয়ার দিয়ে টহল দিয়ে জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিএনপির দাবির অগ্রগতি কিনা জানতে চাইলে কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি এটা মনে করি না। বিএনপি সেনা মোতায়েন হবে বলেনি। তারা বলেছে, ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারসহ সেনা মোতায়েন করতে হবে। তবে বিএনপির বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই।’

সেনা মোতায়েনের বিষয়ে কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে অন্য কমিশনারদেরও যে অনুভূতি দেখেছি তাতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে। তবে এটা কমিশনে সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা এখনই বলা যাবে না। সময় হলেই কেবল বলা যাবে। কখনোই বলব না যে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘অতীতে কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা বলছি। সময় হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিই বলে দেবে, কিভাবে সেনা মোতায়েন হবে। বিএনপি বা কোনো দলের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানানো আমাদের লক্ষ্য নয়।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আগে যেসব ইভিএম দিয়ে নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ নষ্ট। আমরা সেগুলো অকার্যকর বলে ঘোষণা দিয়েছি। আর অবশিষ্ট যেগুলো আছে, সেগুলো দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করব। বর্তমানে আমাদের যে প্রস্তুতি তা নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। তবে আমরা এমন কিছু করতে চাই, যার ফলে আগামীতে যারা আসবে তারা যেন এটি ব্যবহার করতে পারে। কেননা, ইভিএমে ভোটগ্রহণের দিকে যেতেই হবে।’

মাহবু্ব তালুকদার আরো বলেন, একটা প্রশ্নবিদ্ধ যন্ত্র দিয়ে আমরা ভোটগ্রহণ করতে পারি না। যতক্ষণ পর্যন্ত নিঃসন্দেহ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা জাতীয় নির্বাচনে এই যন্ত্র ব্যবহার করব না। যন্ত্র যখন মানুষের ভাষায় নয়, নিজের ভাষায় কথা বলবে, কেবল তখনই ভোটগ্রহণে ব্যবহার করা হবে। তাই আগামী নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

Category: 1stpage, Scroll_Head_Line, দেশের খবর, শীর্ষ সংবাদ

About the Author ()

Leave a Reply